প্রিয় বাবা — মোঃ হাফিজুল ইসলামের আবেগঘন চিঠি

0
WhatsApp Image 2026-06-20 at 4.15.30 PM

মোঃ হাফিজুল ইসলাম এবং তার বাবা

প্রিয় বাবা,

এ ধরা ধরনির আকাঙ্ক্ষিত শান্তি তোমার উপর বর্ষিত হউক। কেমন আছো বাবা? অনেকদিন তোমায় দেখি না। খুব ইচ্ছে করে তোমার সান্নিধ্যে যেতে। যদি তোমার ছায়া-শীতলে আবার একটু আশ্রয় পেতাম, তাহলে এ বৃহৎ নিশির নিদ্রায় যেতাম, যেখানে শিশুর মতো তোমার হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির একটি অংশ ধরে তোমার বুকের মাঝে ঘুমিয়েছি।

বাবা, তুমি আমার শক্ত হাতের নরম মায়ায় পরম যত্নে আমায় গভীর ঘুমে রেখেছ…

দূর প্রবাসে বসে ভাবি, শুধু তোমাকেই ভাবি। যে ভাবনায় তুমি উদ্বিগ্ন থাকতে— কবে ছেলে আমার বড় হবে, কবে ছেলে আমার ঘামের নোনা জলের ভিতর লবণের উৎসের খোঁজ পাবে, কবে ছেলে আমার তার মায়ের অমূল্য চাহনি নিশ্চিন্তে আপন মনে শক্ত হাতে ছায়াতলে শীতল ভালোবাসা দান করবে…

বাবা, তুমি অনেক দূরে আছো, বহুদূরে। চাইলেই তোমার ভার্চুয়াল সাক্ষাৎ, কিন্তু এ সাক্ষাৎ কোথাও যেন শূন্যতা থেকেই যায়।

বাবা, এ গভীর রাতে একটুও নিদ্রা নাই আমার দু’চোখে। ভাবছি, তুমি ঠিকই বলেছিলে—

“পাষাণ পৃথিবী দেখেও কেউ দেখবে না বাবা, চোখের পানি চোখেই থাকবে…”

সত্যিই বাবা, তোমার কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে সত্যতা উপলব্ধি করি। ভাবছি, বাবা, তোমার সাথে যখন মাঠে গিয়ে তোমায় কৃষিকাজে সাহায্য করেছি, তোমার পরিশ্রমে ঘর্মাক্ত দেহে ক্লান্তকালে যখন বলতে— “বাবা, বড় হতে হবে, অনেক বড়। যেন মানুষ আমার একটা নাম পড়ায়— ‘ঐ যে দেখ, অমুক অফিসারের আব্বা যায়’।” তখন তোমার মুখে কথাগুলো শুনে শুধু তাকিয়ে থেকে ভাবতাম— “তোমার আর কী নাম লাগবে?”

বাবা, তোমার কষ্টগুলো শুধু সংসারের বোঝা যে জগদ্দল পাথর, তা তুমি আর মা যখন সন্ধ্যায় উনুনের হাঁড়িতে ব্যস্ত, আমি অবাক নয়নে দেখতাম। এভাবে রাত যেত, যেত দিন, ক্ষণ। বাবা, আমাদের ঘরে আরও দুটি আসমানী রা ছিল। তাদের জন্য তোমার চিন্তার শেষ না হতেই আবার আমি তোমার ক্রিয়াশীল চিন্তাকে আরও গতিশীল করে দিতাম।

বাবা, শরীরের রক্তকে পানি করে নিরলস পরিশ্রমে শৈশব থেকেই কোনোমতে একটি বিদ্যালয়ের আঙিনা চিনিয়েছিলেন। তা আমি, বাবা, তোমার চেষ্টাকে বৃথা যেতে দিইনি।

বাবা, তোমার একা কামলা খেটে পরিশ্রমে আমাদের আসমানিরা ও আমি বড় হয়ে বুঝতে শিখেছি— অভাব কত ভালোবাসত আমাদের… যা ২০ টাকায় ১ সপ্তাহের বাজার করতে হতো… যাই হোক বাবা, আমাদের ঐ অনিশ্চিত সময়ে তোমার অনুপ্রেরণা নিশ্চিতত তোমাকে দিয়েছি…

বাবা, তোমার পুঁথিগত বিদ্যা না থাকলেও অনেক স্বপ্ন ছিল। তা তুমি সঠিক বীজ বপনে আমি চারাগাছ থেকে তোমার খোকা হতে পেরেছি।

বাবা, এখন গভীর রাত। তোমার ঘরের দক্ষিণ জানালা খুলে যখন তুমি আরাম করে ঘুমাও, দক্ষিণের হিমেল পবন যখন তোমার শরীরে স্পর্শ করে, আমি অনুভব করি, বাবা, তোমার পরিশ্রমের সফলতা বারবার স্পর্শ করে যায়।

আমি এখনো সিক্ত নয়নে ঐ দক্ষিণের হাওয়া লগ্নে তোমার সাথে একটু ঘুমাতে চাই।

তোমার চোখের আইরিশ থেকে গবেষণা করে তোমার সৃষ্টিশীল স্বপ্নগুলোর গভীরতা নিয়ে গবেষণা করতে চাই, যে বাবারা কঠিন থেকে কঠিনতর বাধা অতিক্রম করেও তার দুলালের জন্য জীবনের পঞ্চাশটি বসন্ত উৎসর্গ করেন।

বাবা, যখন আমি, তুমি মিলে গভীর রাতে নৌকায় মাঝনদীতে মাছ ধরতে যেতাম আর তোমার কণ্ঠে সৈয়দ আব্দুল হাদী ও আব্দুল আলীমের মতো মর্মী গানগুলো তোমার মুখে শুনতাম, তোমার গানের শব্দগুলো এখন আমার কানে স্পর্শ করে যায়। আমি সে সব শব্দের বাস্তবতা খুঁজে পাই।

বাবা, তোমার শৃঙ্খলা আর শাসন আমাকে তোমার করে নিয়েছে…

বাবা, তোমার অব্যাহত পরিশ্রম আর কঠিন বাস্তবতার মেলবন্ধন যেন বাবা দিবসের প্রতিটি জীবনে শান্তিময় বয়ে আনে— এ প্রার্থনা থাকবে।

বাবা, তোমার সৃষ্টিশীল কর্মের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তোমার একটি নাম অর্জনের চেষ্টায় নিমজ্জিত…

………..তোমার জন্য শুভকামনা ও কল্যাণ প্রার্থনা রইল, বাবা…

ইতি
তোমার দুখু

তারিখ: ১৯.০৬.২০২৬ খ্রিঃ
সময়: রাত ১.৫০ মিনিট

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
20 June 2026

প্রিয় বাবা — মোঃ হাফিজুল ইসলামের আবেগঘন চিঠি

www.muktopathon.com |
muktopathon
muktopathon