জাদুকরী রঙিন ছাতা
জাদুকরী রঙিন ছাতা
-মো. কামরুজ্জামান, ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ), রাজশাহী পিটিআই
গ্রাামের নাম সবুজবাগ। ভোরবেলা থেকেই আকাশজুড়ে ঘন কালো মেঘ। স্কুলে যাওয়ার সময় হলো। বৃষ্টিও শুরু হলো। কণা, আল্লামা আর হাসান তিন ভাই বোন বড্ড চিন্তায় পড়ে গেল। কিভাবে স্কুলে যাবে তারা। তিনজনই চলে গেল তাদের দাদির কাছে । দাদি তাদের একটি ছাতা উপহার দিল। কালো কাপড়ের ছাতা। ছাতাটি ফুটানোর সাথে সাথে ছাতার কালো কাপড় রংধনুর সাত রংয়ে রঙিন হয়ে গেল। হাসান বলে উঠল, দেখো দেখো মা, ছাতাটি রংধনুর সাতটি রং লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, আসমানি আর বেগুনি রংয়ে রঙিন হয়ে গেছে। মা দেখে খুবই আশ্চর্য হয়ে উঠল।
আল্লামা ছাতাটি মাথার উপর ধরল। কণা ছাতার নিচে আসা মাত্র ছাতা একটু বড় হলো। হাসানও ছাতার নিচে আসল। ছাতা আরো একটু বড় হলো। দাদি বললেন, তোমরা ছাতাকে যা বলবে, ছাতা তাই শুনবে।
তিন ভাই বোন দাদির কথা শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল। বই-পুস্তক আর খাতা-কলম ব্যাগে নিয়ে নিজেদের কাঁধে তুলে নিল। দাদি ও মায়ের অনুমতি নিয়ে তারা বাড়ি উঠানে গেল।
এবার আল্লামা ছাতাকে বলল- ছাতা, পাখির মতো উড়ে চলো। যে কথা সে কাজ। ছাতা গাছ পালার উপর দিয়ে চলা শুরু করল। রাস্তার লোকজন চৎিকার দিতে লাগল, কী যায়, ওটা কী যায় ।
ছাতা পৌঁছে গেল স্কুলে। ইতিমধ্যে বৃষ্টি থেমে গেল। বারান্দায় শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ জাদুকরী ছাতা নিয়ে তিন ভাই-বোন স্কুলের পৌঁছে গলে। কিন্তু তারা স্কুলে মাঠে নামতে পারছিলো না। কারণ বৃষ্টির পানিতে মাঠ ডুবে ছিল। আল্লামা ছাতাকে বলল, মাঠ শুকিয়ে যাক। এবার ছাতার ভিতর থেকে রংধনু বের হলো। হাতির শূড়রে মত করে মাঠের পানি শুকিয়ে দেয়া হলো। তিন ভাই বোন স্কুলের মাঠে নামল। এই ঘটনা দেখে স্কুলের বারান্দায় থাকা সবাই আনন্দে হৈচৈ শুরু করল। সবাই মাঠে নেমে আসল।
একজন ছাত্র বলল, আল্লামা, আমরাতো জামা ভিজে স্কুলে এসেছি। আমাদের জন্য কিছু করো। আল্লামা বলল, ভেজা জামা কাপড় শুকিয়ে যাক। ছাতার থেকে আবার রংধনু বরে হলো এবং ভেজা জামাগুলো শুকিয়ে দিল।
ক্লাস শুরু হলো। শিশুরা সবাই মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের পাঠ শুনল। ছুটির ঘন্টা বাজতে শিশুরা সবাই বাইরে আসল। কিন্তু দেখা গেল আবার আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। শিক্ষক বললেন, হাসান কী করা যায়? তখন কণা বলে উঠল- জনাব, সবাইকে নিয়ে আমরা বাড়ি পৌঁছে দিব। এবার সবাই এক এক করে ছাতার নিচে চলে আসল। ছাতাও আস্তে আস্তে বড় হতে লাগল। এর পর আল্লামা শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে সবাইকে নিয়ে উড়াল দিল। শিশুরা মনের সুখে গান শুরু করল।
কণা গো কণা, কোথায় পেলে তুমি এমন রঙিন জাদুর ছাতা…
এরপর এক এক করে সবার বাড়িতে বন্ধদের পৌঁছে দেয়া হচ্ছিল। আর সাথে সাথে ছাতাও ছোট হতে লাগল। অবশেষে তিন ভাই বোন নিজেদের বাড়ি পৌঁছে গেল। দাদিকে এবার আল্লামা ছাতা ফেরত দিল এবং জিজ্ঞেস করল, দাদি, তোমার ছাতার রহস্য বলো।
দাদি বলল, এর রহস্য একমাত্র আমার দাদিই জানে। দাদি বলল, আমার দাদিমা বলেছে, মানুষ যখন বিপদে পড়বে, তখনই তাদের সাহায্য করার জন্য এ ছাতাটা উপহার দিবে। সাহায্য ছাড়া অন্য কোন কাজে এ ছাতা ব্যবহার করলে ছাতা কথা শুনবে না। এমন কথা শুনে তিন ভাই বোন চিন্তায় পড়ে গেল। তারা নিজেরা বলাবলি করল। এখন থেকে আমরা মানুষকে সাহায্য করার জন্য এ ছাতা ব্যবহার করব। দাদি তাদের সাহায্য করার কথা শুনে খুশি হলো।
এবার দাদি ছাতা বন্ধ করল। আর ছাতা বন্ধ করা মাত্র জাদুকরী রঙিন ছাতা সাধারণ ছাতায় কালো রংয়ে পরিণত হলো।
-মো. কামরুজ্জামান, ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ), রাজশাহী পিটিআই
শ্রেষ্ঠ ইন্সট্রাক্টর (পিটিআই) প্রথম স্থান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৪
শ্রেষ্ঠ ইন্সট্রাক্টর (পিটিআই) দ্বিতীয় স্থান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩